Header Ads Widget

কম্পিউটার / কম্পিউটার ও আধুনিক সভ্যতা / দৈনন্দিন জীবনে কম্পিউটার / কম্পিউটার : আধুনিক সভ্যতার সোপান / কম্পিউটার : আধুনিক বিজ্ঞানের বিস্ময় / কম্পিউটার বিজ্ঞানের এক বিস্ময় / আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তিতে কম্পিউটার / বিজ্ঞানের এক বিস্ময় কম্পিউটার / কম্পিউটার ও আধুনিক বিশ্ব

ভূমিকা : বর্তমান সভ্যতা বিজ্ঞানের দান। বিজ্ঞানের অব্যাহত জয়যাত্রার একটি বৃহত্তম উপাদান হলো কম্পিউটার। বিশ শতকের শ্রেষ্ঠ আবিষ্কার হলো কম্পিউটার। বর্তমান যুগ; কম্পিউটার নিয়ন্ত্রিত যুগ। কম্পিউটারের আধুনিক প্রযুক্তির যাত্রা খুব বেশিদিন না হলেও দ্রুত এর ব্যাপক বিস্তৃতি ঘটেছে। তথ্য, শিক্ষা, চিকিৎসা, যানবাহন নিয়ন্ত্রণ, বৃহৎ শিল্প-কারখানা ব্যবস্থাপনা প্রভৃতি কাজে কম্পিউটার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে দিন দিন এক অবিশ্বাস্য দ্রুতগতিতে বেড়ে চলছে এর প্রয়োগের ক্ষেত্র ও প্রয়োজনীয়তা। আমাদের দৈনন্দিন জীবনের সর্বক্ষেত্রে বৈচিত্র্যপূর্ণ কাজকর্মে এর বিশেষ অবদান রয়েছে।

'কম্পিউটার'-এর পরিচয় : কম্পিউটার শব্দের অর্থ গণনাকারী। সাধারণভাবে যেকোনো গণনাযন্ত্রকে Computer বলে। ল্যাটিন শব্দ Compute থেকেই Computer কথাটির উৎপত্তি। এর সাহায্যে জটিল জটিল গাণিতিক সমস্যা সমাধান ও সিদ্ধান্তমূলক কাজ করা যায়। কম্পিউটার যন্ত্রটি মানুষের দেওয়া যৌক্তিক তথ্যের ভিত্তিতে কাজ করে এবং নির্দেশনা অনুসারে তথ্য প্রদান করে।

কম্পিউটার আবিষ্কারের ইতিহাস : প্রাচীনকালে মানুষ সংখ্যা গণনার জন্য ঝিনুক, নুড়ি, দড়ির গিট ইত্যাদি ব্যবহার করত। খ্রিস্টপূর্ব ৫০০ থেকে ৪৫০ অব্দে মিসর ও চীন দেশে ফ্রেমে সাজানো গুটির স্থান পরিবর্তন করে গণনা করার যন্ত্র অ্যাবাকাস ( Abacus) চালু হয়। এই অ্যাবাকাস থেকে কম্পিউটারের ইতিহাসের শুভ যাত্রা। পরবর্তীতে ১৬৪২ সালে ফরাসি বিজ্ঞানী প্যাসকেল (Pascal) গণনার জন্য যান্ত্রিক ক্যালকুলেটর আবিষ্কার করেন। ১৬৭১ সালে জার্মান গণিতবিদ গটফ্রাইড ভন লিবনিজ (Gottfried Von Leibniz) প্যাসকেলের যন্ত্রের ভিত্তিতে গুণ ও ভাগের ক্ষমতাসম্পন্ন রিকোনিং যন্ত্র (Reckoning Machine) আবিষ্কার করেন। ১৮০১ সালে 'অ্যানালিটিক্যাল ইঞ্জিন' নামের একটি স্বয়ংক্রিয় গণনা যন্ত্র তৈরির চেষ্টা করেন কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্রিটিশ গণিতবিদ অধ্যাপক চার্লস ব্যাবেজ। ১৮২৩ সালে বিয়োগফলভিত্তিক গণনাযন্ত্র ডিফারেন্স ইঞ্জিন (Difference Engine) আবিষ্কার করেন চার্লস ব্যাবেজ। ১৮৩৩ সালে তাঁর পরিকল্পিত আধুনিক ক্যালকুলেটরের মূলনীতির ওপর ভিত্তি করে পরবর্তীতে কম্পিউটার উদ্ভাবিত হয়। তাঁর আবিষ্কৃত অ্যানালিটিক্যাল ইঞ্জিনের ধারণাকে আধুনিক কম্পিউটারের সূত্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়। চার্লস ব্যাবেজকে অভিহিত করা হয় কম্পিউটারের জনক হিসেবে। তারপর লেডি অ্যাডা বায়রন, ফ্রাঙ্ক বন্ড ইউন প্রমুখ ব্যাবেজের উক্ত কাজকে এগিয়ে নিয়ে যান।

১৮৮৭ সালে ড. হরম্যান হলেরিথ যুক্তরাষ্ট্রের আদমশুমারির কাজে ব্যবহারের জন্য ইলেকট্রো মেকানিক্যাল ব্যবস্থায় পাঞ্চ কার্ড সমন্বয়ে একটি যন্ত্র আবিষ্কার করেন। এর দ্বারা দ্রুত আদমশুমারির কাজ করা যেত। ১৮৯৬ সালে তিনি এ যন্ত্র তৈরির জন্য হলেরিথ টেবুলেটিং মেশিন কোম্পানি নামের একটি কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তীতে আরও কয়েকটি কোম্পানি প্রতিষ্ঠিত হয়। এই কোম্পানিগুলো একত্র হয়ে ইন্টারন্যাশনাল বিজ্ঞনেস মেশিন' কর্পোরেশন (IBM) গঠন করে। এই IBM-এর চারজন প্রকৌশলীর সহযোগিতায় তৈরি করা হয় প্রথম স্বয়ংক্রিয় সাধারণ ইলেকট্রোমেকানিক্যালি ডিজিটাল কম্পিউটার Mark-1, ১৯৪৪ সালে।

কম্পিউটারের গঠন : কম্পিউটার প্রধানত দুটি অংশ নিয়ে গঠিত- হার্ডওয়্যার ও সফ্টওয়্যার। হার্ডওয়্যারে থাকে সেন্ট্রাল প্রসেসিং ইউনিট (সিপিইউ), ইনপুট ও আউটপুট ডিভাইস, স্টোর ডিভাইস। ইনপুট ডিভাইসের সাহায্যে প্রোগ্রাম স্টেটমেন্ট ও ডাটা সরবরাহ করা হয়। কিবোর্ড, মাউস ইনপুট ডিভাইস হিসেবে কাজ করে। স্টোর ডিভাইসের মাধ্যমে তথ্যসমূহ কম্পিউটারে সংরক্ষণ করে রাখা হয়। তবে যেকোনো সমস্যা সংক্রান্ত তথ্য নিয়ে কাজ করে সিপিইউ। এক্ষেত্রে ইনপুট তথ্য সংবলিত নির্দেশ প্রদান করে আর আউটপুট প্রকাশ করে গণনা সংবলিত ফল। কম্পিউটারের যাবতীয় তথ্যই প্রোগ্রাম। আর এ কাজের জন্য কম্পিউটারে যে বিশেষ ভাষা সাইন ব্যবহার করা হয় তাকে 'প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ' বলে। 'প্রোগ্রাম' সংক্রান্ত যাবতীয় বিষয়ই সফটওয়্যার। তথ্য ও প্রোগ্রাম রদবদল করে একই কম্পিউটারকে দিয়ে নানা রকম কাজ করানো যায়। মূলত সফ্টওয়্যার ও হার্ডওয়্যারে সংযুক্ত যন্ত্রগুলোর সচল কার্যক্রমই কম্পিউটারের কার্যক্রম।

কম্পিউটারের প্রকারভেদ : কম্পিউটারের নানা রকম ব্যবহারের ওপর ভিত্তি করে কম্পিউটারকে প্রধান দুভাগে ভাগ করা যায়- সাধারণ ব্যবহারিক কম্পিউটার এবং বিশেষ ব্যবহারিক কম্পিউটার। কম্পিউটারের গঠন ও প্রচলন নীতি অনুসারে কম্পিউটার আবার তিন প্রকার— এনালগ, ডিজিটাল ও হাইব্রিড কম্পিউটার। আকার, সামর্থ্য, দাম ও ব্যবহারের গুরুত্বের ভিত্তিতে ডিজিটাল কম্পিউটারকে আবার চার ভাগে ভাগ করা যায়- মাইক্রো কম্পিউটার, মিনি কম্পিউটার, মেইনফ্রেম কম্পিউটার, সুপার কম্পিউটার। একটি রাশিকে অপর একটি রাশির সাপেক্ষে পরিমাপ করার ক্ষমতাসম্পন্ন কম্পিউটার এনালগ কম্পিউটার। ভোল্টেজের উপস্থিতিকে ১ এবং অনুপস্থিতিকে ০ দ্বারা প্রকাশক কম্পিউটার ডিজিটাল কম্পিউটার। এটি যেকোনো গণিতের যোগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারে এবং বিয়োগ, গুণ ও ভাগের মতো অন্যান্য অপারেশন যোগের সাহায্যে সম্পাদন করে। আধুনিক সকল কম্পিউটার ডিজিটাল কম্পিউটার। এনালগ ও ডিজিটাল কম্পিউটারের সর্বোত্তম বৈশিষ্ট্যগুলোর সমন্বয়ে গঠিত কম্পিউটারই হচ্ছে হাইব্রিড কম্পিউটার। এ কম্পিউটারে সাধারণত তথ্য সংগ্রহ করা হয় এনালগ পদ্ধতিতে এবং গণনা করা হয় ডিজিটাল পদ্ধতিতে।

সভ্যতার অগ্রগতিতে কম্পিউটারের ভূমিকা : কম্পিউটার আজকের যুগে মানুষের পরম নির্ভরশীল বন্ধু। কম্পিউটার অতি অল্প সময়ে বিভিন্ন জটিল সমস্যার সঠিক সমাধান করে সমস্যাগ্রস্ত মানুষকে সাহায্য করছে। জীবনমানের উন্নয়ন ও উন্নতির প্রভাব পড়ছে সমাজে, রাষ্ট্রে। আধুনিক সভ্যতা এ সময়ের মানুষের দ্বারা পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে এবং তা মানুষের কল্যাণের জন্য নিবেদিত। এই কল্যাণে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখছে কম্পিউটার। কম্পিউটার বড় বড় কলকারখানায় উৎপাদন পরিকল্পনা, নিয়ন্ত্রণ খবরদারি, লাভ-ক্ষতির হিসাব-নিকাশ প্রভৃতি করে উৎপাদন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। কম্পিউটার পরীক্ষার ফল প্রকাশ, অপরাধীর সন্ধান, বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ, বিজ্ঞাপন প্রচার, শিক্ষার প্রসার ইত্যাদি কাজ করে সভ্যতার চাকাকে আরও দ্রুত ঘোরার সুযোগ করে দিচ্ছে। জল, স্থল ও আকাশপথে চলাচলকারী সমস্ত যানবাহন নিয়ন্ত্রণ, বিভিন্ন খেলাধুলা, ভবিষ্যৎ ভাবনা, পরিকল্পনা ইত্যাদি ক্ষেত্রে কম্পিউটার মানুষের চিন্তাকে স্থির, প্রসারিত ও কার্যকর করে তুলছে। এটি বিজ্ঞানীদের বহু চিন্তা, চেষ্টা, কৌতূহল, আবিষ্কারকে যাচাই-বাছাই, বিশ্লেষণে নির্ভুল তথ্য-উপাত্ত দিয়ে সহায়তা করছে। মহাকাশ গবেষণা, পৃথিবীর বাইরে চাঁদ ও মঙ্গলগ্রহে প্রাণের অস্তিত্ব আবিষ্কারের চেষ্টা ও সফলতার জন্য কম্পিউটার ব্যবহৃত হচ্ছে। ফলে আধুনিক সভ্যতার অগ্রগতিতে কম্পিউটারের ভূমিকাটি হয়ে উঠেছে উজ্জ্বল।

কম্পিউটার ও আধুনিক জীবন : আধুনিক জীবনযাত্রায় কম্পিউটার একটি অত্যাবশ্যকীয় উপাদান হিসেবে অর্থবহ ভূমিকা রেখে চলছে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিগত দুই-তিন দশকে যে অগ্রগতি সাধিত হয়েছে কম্পিউটারের বিকাশ ছাড়া তার বেশিরভাগই সম্ভব হতো না। সিটি স্ক্যানের সাহায্যে রোগ নির্ণয়, মঙ্গলগ্রহে যাত্রা, সমুদ্রের তলদেশের খোঁজ, ভূগর্ভস্থ সম্পদের জরিপ প্রভৃতি কাজে কম্পিউটারের ব্যবহার লক্ষণীয়। কম্পিউটার আধুনিক যুগে মানুষের পরম নির্ভরশীল বন্ধু। কম্পিউটার এখন বড় বড় কল-কারখানায় বসে উৎপাদনের পরিকল্পনা আর তা নিয়ন্ত্রণের খবরদারি করছে। লাভ-ক্ষতির হিসাব-নিকাশ করছে। রেলওয়ে, এয়ারলাইনস, ব্যাংক রিসার্চ সেন্টার, ইনস্যুরেন্স প্রভৃতি প্রতিষ্ঠানে কম্পিউটারের একচ্ছত্র আধিপত্য। পরীক্ষার ফল প্রকাশ, অপরাধীকে খুঁজে বের করা, পুরনো মামলার নথিপত্র খুঁজে তথ্য সংগ্রহ করে দেওয়া, বিজ্ঞাপন প্রচার করা এসবই করছে কম্পিউটার। মানুষের অসাধ্য কাজ কম্পিউটার সহজ ও সাধ্য করে তুলছে। যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ, বিভিন্ন খেলাধুলা, ভিডিও গেম ইত্যাদি করছে কম্পিউটার। শিক্ষাক্ষেত্রে কম্পিউটার শিক্ষকের ভূমিকা পালন করছে। মুদ্রণ জগতে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করেছে কম্পিউটার। ইন্টারনেটের সাহায্যে ঘরে বসে মুহূর্তেই বিশ্বের যেকোনো জায়গায় যেকোনো তথ্য আদান-প্রদান করা যাচ্ছে। মানুষের অসাধ্য ও বিপজ্জনক কাজেও কম্পিউটার নিয়ে এসেছে অকল্পনীয় সাফল্য। সভ্যতায় কম্পিউটারের অবদান অনস্বীকার্য। এ কারণে কম্পিউটার আমাদের আধুনিক জীবনের এক অপরিহার্য উপাদান ।

বাংলাদেশে কম্পিউটারের ব্যবহার : বাংলাদেশে কম্পিউটার ব্যবহার শুরু হয়েছে ষাটের দশক থেকে। ১৯৬৪ সালে আণবিক শক্তি কেন্দ্রে IBM 1620 সিরিজের একটি কম্পিউটার দিয়ে প্রাথমিকভাবে এ যাত্রা শুরু হয়েছিল। বর্তমানে বাংলাদেশে কম্পিউটারের দ্রুত ও ব্যাপক ব্যবহার ঘটেছে। কম্পিউটার শিক্ষাও এদেশে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। এদেশে কম্পিউটার শিক্ষার সূত্রপাত ঘটে ১৯৮৪ সালে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটার বিজ্ঞান বিভাগ প্রতিষ্ঠা হয় ১৯৯৩ সালের ১ সেপ্টেম্বর। উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে ১৯৯১ সাল থেকে এবং মাধ্যমিক পর্যায়ে ১৯৯৪ সাল থেকে কম্পিউটার শিক্ষাকে পাঠ্যক্রমের অন্তর করা হয়। বর্তমানে বাংলাদেশে গবেষণা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তর, ব্যাংক, বিমাসহ অন্যানা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান শিল্প-কারখানা, সামরিক স্থাপনা ইত্যাদি ক্ষেত্রে কম্পিউটার ব্যবহার হচ্ছে। সরকারি দপ্তরসমূহের মধ্যে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো বৃহত্তম কম্পিউটার ব্যবহারকারী প্রতিষ্ঠান। বর্তমানে কম্পিউটার প্রযুক্তি ব্যবহার করে কিছু সংখ্যক দেশি ও বিদেশি ব্যাংক একক ও সম্মিলিতভাবে পরিচালনা করছে এটিএম (Automatic Teller Machine - ATM) নেটওয়ার্ক। দেশের প্রধান প্রধান শহরে এটিএম কার্ড ব্যবস্থা দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। ১৯৯৯ সাল থেকে এদেশে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে ক্রেডিট কার্ড (Credit Card)। এদেশে মাইক্রোচিপস স্থাপিত স্মার্টকার্ডও ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হয়ে উঠতে শুরু করেছে। বিশেষ করে বিভিন্ন সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান বিল পরিশোধের এই কার্ড ব্যবস্থা খুবই উপযোগী বলে বিবেচিত। বাংলাদেশ সরকারের উল্লেখযোগ্য বিভিন্ন প্রযুক্তিনির্ভর অধিদপ্তর ও সংস্থাসমূহ, যেমন- স্পারসো (Space Research and Remote Sensing Organisation- SPARRSO), বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর (Bangladesh Meteorological Department), বাংলাদেশ জরিপ অধিদপ্তর (Survey of Bangladesh), পানি সম্পদ পরিকল্পনা সংস্থা (Water Research Organisation), বাংলাদেশ ভূতাত্ত্বিক অধিদপ্তর (Geological Survey of Bangladesh) প্রভৃতি প্রতিষ্ঠান তাদের ডাটাবেজ তৈরি এবং মানচিত্র প্রণয়নের কাজ কম্পিউটারের মাধ্যমেই স করছে। বিশেষ করে জিআইএস (Geographical Information System -GIS) সফটওয়্যার ব্যবহার করার মাধ্যমে নানা ধরনের দক্ষতাপূর্ণ মানচিত্র কম সময়ের মধ্যেই প্রণয়ন করা সম্ভব হচ্ছে। আবহাওয়া ও জলবায়ুর তারতম্য পরিবর্তন সম্পর্কিত নানা রকম বিশ্লেষণ করা হচ্ছে কম্পিউটার মডেলিং-এর মাধ্যমে। বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন কম্পিউটারের সাহায্যে ছবিসহ নির্ভুল ভোটার তালিকা প্রণয়ন করছে। বিশেষ করে ওষুধ ও কেমিক্যালের মান নিয়ন্ত্রণে কম্পিউটার ব্যবহার করা হচ্ছে। এভাবে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার ব্যবহৃত হচ্ছে। এসব কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার ডাটাবেজ এদেশেই তৈরি হচ্ছে।

বাংলাদেশে কম্পিউটার চর্চা: বাংলাদেশ ক্ষুদ্র হলেও কম্পিউটার প্রযুক্তিতে বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর সাথে তালমিলিয়ে এগিয়ে চলছে। শিক্ষার বিভিন্ন স্তরে কম্পিউটার শিক্ষা চালু করা হয়েছে। সরকার ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার প্রতিশ্রুতি নিয়ে কাজ করছে। কম্পিউটার চর্চাকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য বেসরকারি উদ্যোগে বেশকিছু পেশাভিত্তিক সংগঠন গড়ে উঠেছে। ১৯৭৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় বাংলাদেশ কম্পিউটার সোসাইটি, বর্তমানে এর সদস্যসংখ্যা প্রায় ১০ হাজার। ১৯৯২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি (বি.সি.এস.)। সমিতির উদ্যোগে কম্পিউটার হার্ডওয়্যার ও সফ্টওয়্যার ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের সুবিধার্থে ১৯৯৭ সালে ঢাকার আগারগাঁওস্থ আই.ডি.বি. ভবনে প্রতিষ্ঠিত হয় বি.সি.এস. কম্পিউটার সিটি নামে বিশাল কম্পিউটার বিক্রয় কেন্দ্র। এছাড়া দেশের বিভাগীয় ও জেলা শহরগুলোতে বড় বড় কম্পিউটার বিক্রয় কেন্দ্র গড়ে উঠেছে। বিভিন্ন সংস্থা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার ক্লাব গড়ে উঠেছে। সেখানে নিয়মিত বিভিন্ন প্রোগ্রাম, সফটওয়্যার ইত্যাদি নিয়ে চর্চা চলছে। সরকারি উদ্যোগে ঢাকার কাছে গাজীপুরের কালিয়াকৈর ও ঢাকার মহাখালীতে কম্পিউটার ও তথ্যপ্রযুক্তি পল্লি প্রতিষ্ঠার কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে । এটি বাস্তবায়ন করা হলে বাংলাদেশে কম্পিউটার ও তথ্য-প্রযুক্তির ব্যবহার ও চর্চা আরও বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে।

কম্পিউটারজনিত সমস্যা : কম্পিউটার ব্যবহারের ক্ষেত্রে কিছু নেতিবাচক প্রভাব লক্ষ করা যায়। কম্পিউটারের ব্যবহারে ইতোমধ্যে অফিসে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন সংস্থায় কর্মীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। একনাগাড়ে অনেকদিন কম্পিউটার চালালে কিংবা মাত্রাতিরিক্ত কম্পিউটার ব্যবহারে চোখের ক্ষতি হতে পারে; মাথাব্যথাসহ অন্যান্য শারীরিক উপসর্গও দেখা দিতে পারে। এছাড়া ভাইরাস আক্রমণে কিংবা বৈদ্যুতিক গোলযোগে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যাদি নষ্ট হয়ে যেতে পারে। যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ভুল তথ্য পরিবেশিত হতে পারে। কোমলমতি শিক্ষার্থীরা অন্য সব কাজকর্ম এবং পড়া বাদ দিয়ে কম্পিউটার গেমসে আসক্ত হয়ে উঠতে পারে। এজন্য কম্পিউটারকে ইতিবাচক অর্থে ব্যবহার করতে হবে।

উপসংহার : আজকের দিনে মানবসভ্যতা কম্পিউটারনির্ভর হয়ে পড়েছে। বিজ্ঞানের এ যুগান্তকারী আবিষ্কার মানুষের জীবনে এনেছে বৈপ্লবিক পরিবর্তন। মহাকাশ গবেষণা ও গ্রহান্তরে যাত্রার মাধ্যমে সভ্যতা স্থানান্তরের প্রক্রিয়া মানুষকে উজ্জীবিত করেছে। তাই আজ বিজ্ঞানী, গবেষক, স্বাস্থ্যকর্মী, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, আবহাওয়াবিদ, ক্রীড়াবিদ সবার কাছে কম্পিউটার হয়ে উঠেছে নিত্যদিনের সঙ্গী, আলোর পথের দিশারী, অভিযাত্রী।

Post a Comment

0 Comments