Header Ads Widget

আইন পেশা রাজনীতির জন্য সহায়ক: তথ্যমন্ত্রী

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেছেন, বিজ্ঞ আইনজীবীরা সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনে এবং সমাজকে সঠিক খাতে প্রবাহিত করার ক্ষেত্রে বিরাট ভূমিকা রাখতে পারে। আইনজীবীরা হচ্ছেন সমাজের স্বাভাবিক নেতা। সে কারণে তাঁদের পক্ষে রাজনীতি করা সহজ। হাছান মাহমুদ বলেন, চট্টগ্রামে হাইকোর্টের সার্কিট বেঞ্চ গঠনের দাবি দীর্ঘদিনের। এটার প্রয়োজনীয়তাও রয়েছে। এ বিষয়ে আইনমন্ত্রীর সঙ্গে কথা হয়েছে। আগামী দু–এক মাসের মধ্যে চট্টগ্রামে সার্কিট বেঞ্চ হবে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির কার্যনির্বাহী কমিটির অভিষেক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তথ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন। চট্টগ্রাম মহানগরীর জিইসি কনভেনশন সেন্টারে এ অনুষ্ঠান চলে। জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু মোহাম্মদ হাশেম অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এরশাদুর রহমান এতে সঞ্চালনা করেন। অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী এবং সম্মানিত অতিথি বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন ভার্চ্যুয়ালি সংযুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন। হাছান মাহমুদ বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানও আইনজীবী হতে চেয়েছিলেন। তিনি আইন বিভাগের ছাত্র ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। তাঁর বাবাও চাইতেন, তিনি আইনজীবী হোন। বঙ্গবন্ধুর ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ যাঁরা পড়েছেন, তাঁরা জানেন। কিন্তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে বহিষ্কার করার কারণে তিনি আইনজীবী হতে পারেননি। তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘পৃথিবীর বড় রাজনীতিবিদদের দিকে যদি তাকাই, তাহলে দেখা যায়, ভারতবর্ষের মহাত্মা গান্ধী, জওহরলাল নেহরু আইনজীবী ছিলেন। ভারতের স্বাধীনতাসংগ্রামে যাঁরা নেতৃত্ব দিয়েছেন, তাঁরাও আইনজীবী ছিলেন।’ সম্প্রচারমন্ত্রী বলেন, ‘আইন পেশাটা রাজনীতির জন্য সহায়ক। আমাদের দেশের প্রথম যে পার্লামেন্ট, সত্তরের নির্বাচনের যে পার্লামেন্ট এবং দেশ স্বাধীন হওয়ার আগে পূর্ব পাকিস্তানের যে আইনসভা ছিল, পাকিস্তানের যে আইনসভা ছিল, ভারতবর্ষের বাংলার যে আইনসভা ছিল, সেদিকে যদি তাকাই, সেখানে আইনজীবীরা সংখ্যাগরিষ্ঠ ছিলেন। পরে অর্থের দাপটের কাছে অনেকে টিকতে পারেননি। আমাদের মন্ত্রিসভায়ও পেশাগত দিক দিয়ে এখনো সবচেয়ে বেশি হচ্ছে আইনজীবী। কারণ, আইনজীবীরা হচ্ছে সমাজের স্বাভাবিক নেতা। সে কারণে তাঁদের পক্ষে রাজনীতি করা সহজ।’ হাছান মাহমুদ বলেন, ‘চট্টগ্রাম বার অ্যাসোসিয়েশনের অনেক সদস্য ইতিহাসের বাঁকে বাঁকে ভূমিকা রেখেছেন। সেই বিবেচনায় চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতি বাংলাদেশের জেলা বারগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ বার। বারের সদস্যসংখ্যা বেশি হলেই সেটি সবচেয়ে সমৃদ্ধ বার হয় না। যদি চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির অতীত সদস্যদের কথা চিন্তা করেন, তাঁরা এ দেশের স্বাধিকার আদায়ের সংগ্রাম, ভারতের স্বাধীনতাসংগ্রাম, সেই বিবেচনা যদি করেন, যাঁরা নেতৃত্ব দিয়েছেন, তাঁদের অনেকেই চট্টগ্রাম আইনজীবী সমিতির সদস্য ছিলেন।’ অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম জেলা ও দায়রা জজ আজিজ আহমদ ভুঞা, মহানগর দায়রা জজ বেগম জেবুন্নেছা, বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সদস্য এ এস এম বদরুল আনোয়ার, সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি মমতাজ উদ্দিন ফকির, সাধারণ সম্পাদক আবদুন নুর দুলাল, চিফ মেট্টোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রবিউল আলম ভূঁইয়া, জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এ এইচ এম জিয়াউদ্দিন, সিনিয়র সহসভাপতি শফিক উল্লাহ, সহসভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আজিজ উদ্দিন হায়দার, সাবেক সভাপতি এনামুল হক প্রমুখ।

Post a Comment

0 Comments